১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট, মধ্যরাতে ঘোষিত হলো দেশ ভাগের কারনে বর্তমানের মালদা জেলাসহ মুর্শিদাবাদ ও দিনাজপুরের কিছু অংশ থাকছে পূর্ব পাকিস্তানের অধীনে অর্থাৎ বর্তমানের বাংলাদেশে। সেই বছর ১৫ই আগস্ট দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা লাভ করে ভারতবর্ষ। কিন্তু মালদা জেলা থেকে যায় পূর্ব পাকিস্তানে। এই ঘটনাকে ঘিরে অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয় গোটা দেশজুরে। ডাঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ও মালদা জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্যোগে শুরু হয় মালদা সহ মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরের পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাওয়া অংশটুকুকে ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত করার। শেষমেশ চাপে নতি স্বীকার করে পূর্ব পাকিস্তান থেকে এদেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয় ঐ অঞ্চল গুলি। ১৯৪৭ সালের ১৭ই আগস্ট মধ্যরাতে ঘোষিত হয় মালদা জেলার পরিচয় হবে ভারতের নামে। শিবগঞ্জ, নাচোল, ভোলাহাট, নবাবগঞ্জ এবং গোমওপুর এই পাঁচটি থানা পূর্ব পাকিস্তানের পাবনা জেলার অন্তর্গত থাকে এবং বাকি ১০ টি থানা নিয়ে গঠিত হয় মালদা জেলা। মালদা জেলাকে ভারতবর্ষের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ই আগস্ট মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনের মাথা থেকে প্রশাসনিক ভবনের পতাকা নামিয়ে উত্তোলন করা হয় তিরঙ্গা।
এই ইতিহাসকে সাক্ষী রেখেই ১৮ই আগস্ট, শুক্রবার মালদা শহরের দুর্গাবাড়ি মোড় এলাকায় উদযাপিত হল ১৮ই আগস্ট মালদার স্বাধীনতা দিবস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজ বাজার পৌরসভার পুরপিতা প্রসেনজিত দাস, শ্রীমতী রাজশ্রী দে, প্রাক্তন পুর প্রধান তথা বিশিষ্ট শিক্ষক গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল সহ আরও অনেকে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ ভাগের সেই ইতিহাস নব প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। সাথে বন্যা দুর্গতদের পাশে থাকার জন্য আবেদন জানানো হয়। ১৮ই আগস্ট ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু কালক্রমে তা পাতার ভাঁজে পরে যাওয়ায় জেলার অধিকাংশ মানুষের কাছেই হয়তো আজও পৌঁছাতে পারেনি সেই দিনটির তাৎপর্য। তাই স্থানীয় দুর্গাবাড়ি মোড়ের বাসিন্দাদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরা।